সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:
কক্সবাজারে পর্যটন খাতের টেকসই রূপান্তর ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ডিসেমিনেশন সেমিনার’। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত SOHO (Smart, Optimized, High-quality, and On-demand Tourism Innovative Education for Sustainable and Green Development) প্রকল্পের আওতায় এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
উক্ত সেমিনারে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (সিবিআইইউ)-এর প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক মো: ইশতিয়াক ইকবাল এবং একই বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান।
সেমিনারে মূল আলোচ্য বিষয় ছিল পর্যটন শিল্পের পরিবেশবান্ধব রূপান্তর বা ‘গ্রিন ট্রানজিশন’-এর জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং উচ্চশিক্ষার পাঠ্যক্রমকে সময়োপযোগী করা। এতে বিশ্ববিদ্যালয় ও পর্যটন শিল্পের সমন্বয়ে বাস্তবমুখী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
অনুষ্ঠানে পর্যটন খাতের বিভিন্ন স্তরের অংশীজনরা (স্টেকহোল্ডার) উপস্থিত ছিলেন এবং নিজ নিজ ক্ষেত্র থেকে টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রাখার বিষয়ে মতামত দেন:
হোটেল ও রিসোর্ট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ: পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন, কর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দৈনন্দিন পরিচালন কার্যক্রমে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণের দিকগুলো তুলে ধরেন।
প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদ দল: টেকসই পর্যটনের অবকাঠামোগত মানদণ্ড, পরিবেশগত নিরীক্ষা ও পরিমাপের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
পরিবহন খাত ও নীতি-নির্ধারকবৃন্দ: রুট ডেটা সমন্বয়, আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থাপনা ও প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালার সমন্বয়ের উপর জোর দেন।
সেমিনারে পর্যটন খাতকে স্মার্ট ও টেকসই রূপ দিতে তথ্যপ্রযুক্তির সম্ভাবনাময় দিকগুলো বিস্তারিতভাবে উঠে আসে। বিশেষ করে ডেটা অপ্টিমাইজেশন, আইসিটি অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি কীভাবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা যায়, সে বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, SOHO প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আধুনিক বিষয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং স্থানীয় অংশীদারিত্বের মাধ্যমে একটি স্থায়ী ‘নলেজ অ্যান্ড কম্পিটেন্স সেন্টার’ গড়ে তোলা, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও আধুনিক পর্যটন খাত বিনির্মাণে ভূমিকা রাখবে।